}

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় রূপগঞ্জের হাসেম ফুডস ফ্যাক্টরির লেলিহান শিখা পুরোপুরি নিভে যাওয়ার পরও ঝলসে যাওয়া প্রাণের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে ৫৪টি ঘরে। বিধ্বস্ত জীবন। ছিন্নভিন্ন স্বপ্ন। বিচারের আশা দুরাশা। এর আগেও বহুবার আগুন লেগেছে। প্রতিবারই আমরা ‘আর না’ বলি। পত্রিকার শিরোনাম। কর্তৃপক্ষের বিবৃতি - ‘পূর্ণ তদন্ত হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ আর তারপর? ভুলে যাই।

মালিকরা যেহেতু ধনী এবং প্রভাবশালী, সম্ভবত তারা সুবিধাপ্রাপ্তদের জন্য রক্ষিত বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকরের সাহায্যে দায় এড়াতে পারবেন। হিসাবনিকাশ করে করা অনুদান আর ক্ষমতাশালীদের নিরন্তর পৃষ্ঠপোষকতা তাদের ভাগ্যকে এই ব্যবস্থার সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ভাগ্য থেকে ভিন্ন করেছে। সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা আবারও ‘মহান’এর বেশে আবির্ভূত হবেন। আগুনে পোড়া নিহতদের বিপরীতে তাদের কবরে লেখা থাকবে তারা ‘দানবীর’, ‘ত্রাতা’।

আর অগ্নিদগ্ধের শিকার যারা, তারা? ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের বাইরে ১২-বছর বয়সী মোহাম্মদ হাসনাইনের খবরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা মা নাজমা বেগমকে আমরা কী সান্ত্বনা বা দিব? কোন মিথ্যাটা বললে তিনি ভুলে যাবেন ছেলের শরীরে আগুন লাগার যন্ত্রণার কথা, তেল-মাংসের সংস্পর্শে আগুন আরও দাউদাউ করে জ্বলে ওঠার কথা?

একটি সমাজ হিসেবে আমরা কিভাবে এসব ঘটতে দিতে পারি? এই পাপমোচন দায় কার? এত মৃত্যুর পর, এত প্রাণকষ্টের পর, এত ক্ষতের পরও যদি আমরা মুখ ফিরিয়ে নেই তাহলে যেই তালা দিয়ে ফ্যাক্টরির দরজা বন্ধ ছিল তাতে আমাদেরও আঙুলের ছাপ থাকবে।

শহিদুল আলম